সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অতএব,তাহার ভালবাসার পরিসমাপ্তি ঘটাইল...







আজ লিখবো
ভালবাসার শেষ চিঠি .........
মৌটুশী,,আজ ইচ্ছে করছে কয়েক দিস্তা কাগজে তোমায় একটা প্রেমের চিঠি লিখতে।হয়তো আমি কবি নয় তাই কবিদের ভাষা না হোক আমার মনের ভাষায় লিখতে। হৃদয়ের কথা গুলো তুমি মন দিয়ে পড়বে আর হারিয়ে যাবে আমার ভালোবাসার গভীরে।আগেও তোমায়
চিঠি লিখেছি ,আজ লিখবো,আমার খুব ইচ্ছে,তোমার আমার প্রেমের কথা এমন করে লিখবো,যা তোমার চোখে পড়বে,আর তুমি তা পড়বে....
আমার মৌটুশী,,
কেমন আছ তুমি?নিশ্চয় অনেক ভাল আছ,সুখেই আছ।তোমার সুখের পথে আমি তো একমাত্র বাঁধা।এখন আমি নেই,নেই কোনো অস্তিত্ব কিংবা এমন কোনো স্মৃতি,যা তোমার সুখ স্বপ্নে হানা দিবে। আর তোমার''জীবনের অভিশাপ্ত মানুষটি।
জানি আমি কেমন আছি তা জানবার কোনো আগ্রহই নেই তোমার মাঝে।কখনো কখনো খুব অবাক হয় কেমন করে এতটা অনুভতি শূন্য হয়ে গেলে তুমি?জানি এখনও তুমি সবার সাথে হাসো,হৃদয় দিয়ে সবাই কে ভালবাসো,এর মাঝে শুধু আমার প্রতি তোমার অনুভতি শূন্যতা কেন?খুব কষ্ট লাগে।মৌটুশী,,তুমি কি জানো,মানুষ কেন একজন অন্য জন কে ভালবাসার কথা বলে,অনুভতি দেখাতে কাছে আসে বা
আসতে দেয়,তার পড় নিজের সুখের প্রয়োজনে সেই ভালবাসার মানুষকে বলে,
আমি জানিনা তোমায় ভালবাসি কি-না!
অথবা,,আমায় একা থাকতে দাও!
অথচ একবারও ভাবেনা,তাকে ভালবাসলো যে মানুষটি সে একা থাকতে চাই কি-না।
ঠিক তুমি যেমনটা আমার সাথে করেছ।নিজেকে অনেক বেশি সহজ সরল মনে করো,মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন ভাব,অথচ ভালবাসি বলে ভালবাসার মানুষকে ময়লার মত ডাস্টবিন এ ফেলে দেয়া,মানবিকতার কোন পর্যায়ে পড়ে সে ব্যাখ্যা কখনো
দাওনি।
জানো কি,
তোমার একটু প্রিয় হওয়ার জন্য,একটু তোমার ভালবাসা পাওয়ার জন্য কত না চেষ্টা করেছি,আর সেগুলো তোমার কাছে সব সময় মূল্যহীন-ই থেকে গেছে।কি জানো তুমি আমার সব কিছুতেই মিথ্যে দোষ দিতে, কিন্তু মিথ্যে অপবাদ মানুষ কে অনেক বেশি কষ্ট দেয়,আমি কষ্ট পেতাম
কিন্ত সেগুলো মেনে নিতাম,ভাবতাম তুমি ভুল বুঝতে পেরে হয়তো তোমার হৃদয়ে জায়গা দিবে।মনে পড়ে,,
একদিন তুমি বলেছিলে আমায় অনেক বেশি ভালবাস, এটাই তোমার বড় দোষ।কষ্ট যতটা না পেয়েছিলাম,তার অনেক বেশি অবাক হয়েছিলাম তোমার মুখে কথাটা শুনে,অনেক বেশি অভিমান হয়েছিল তোমার উপর। কিন্তু রাগ করতে পারিনি,আজও পারিনা।আজও মনে হয়
আমি তোমার ভালবাসা পাবার যোগ্য নয়।আমার মত একটা অনাড়িকে কেনই বা ভালবাসবে তুমি মুক্ত পাখি? মৌটুশী,,তোমার সকল অভিযোগের মাঝে ছিল আমি স্বপ্নচারী মানুষ।হ্যাঁ আমি স্বপ্নচারী মানুষ ছিলাম।যখন আমি প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি,তখন থেকে এই অভ্যাসের শুরু।বয়স যখন বাড়তে থাকলো,তখন এই কল্পনা গুলো তে সিনামা নাটকের প্রেম ভালবাসার প্রভাব বিস্তার শুরু হলো।নিজেকে বেশির ভাগ সময় দেবদাস ধরনের চরিত্র দিয়ে কল্পনার সিনেমা তৈরি করতাম।
আমার স্বপ্নের ভূবনে তুমি যে দিন এলে আমার সব কিছু দিয়ে তোমায় আপন করে নিলাম,কিন্তু তুমি আমার সরলতাকে কাজে লাগিয়ে আমার নিঃস্ব করে,আমার গলায় ছুড়ি ধরে বলে দিলে স্বপ্নচারী মানুষেরা স্বপ্নেই সাথী হয়,বাস্তবে নয়।সময়ের পরিক্রমায় এখন আমি আর স্বপ্ন নিয়ে থাকিনা,অথচ আমি বাস্তবেও নেই..
মৌটুশী,,
তুমি আমায় যতটা খারাব ভেবেছিলে,যতটা নষ্ট বেবেছিলে তত টা হয়তো আমি নষ্ট নই।তুমি শুধু তোমার যুক্তিগুলো আমার সামনে হাজির করতে,অথচ আমার যুক্তি গুলো বিষ্লেশণ করার প্রয়োজন মনে করতেনা।
মৌটুশী ..
তুমি কি রাগ হচ্ছো না কি বিরক্ত হচ্ছো?
না কি আমার লিখা দেখে চোখ সরিয়ে নিবে?
মৌটুশী,,
চিঠিটা শুধু তোমার জন্য লিখা,হয়তো আর কখনো লিখতে পারবোনা।মৌটুশী,,তুমি কি জানো আমি কেন তোমায় আমার জীবনে চেয়েছিলাম,ভেবেছিলে শুধু আমার জন্য
না মৌটুশী,আমার জন্য নয়,তোমার জন্যও নিজেকে তোমার সঙ্গে জড়াতে চেয়েছিলাম।আমি তখনও তোমার সুখের কথা ভেবেছি,এখনো তোমার সুখের কথা ভাবি।তাই তোমার
পথে না দাঁড়িয়ে,তোমায় চিঠি লিখছি,কেউ জানবেনা,শুধু মৌটুশী আর মিজান জানবে।
মৌটুশী,,
জোত্স্না রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে যায়,আমি তখন ঐ দূরের আকাশে তাকিয়ে ভাবতে থাকি তোমায় নিয়ে,কতই না কবিতা গান গল্প লিখেছি ,মনে পড়ে যায় আমাদের সম্পর্ক শুরুর দিন গুলো,ঈদ এর পর সেই ফ্যান্টাসি কিংডমের ঘুড়তে যাবার কথা।তোমায় সেই ঝুটি বাধা অপূরুপ সুন্দর চুলগুলোয় একখানা লেহেঙ্গা পরে আমার স্বপ্নের পরীর বেশে
যেইদিন তোমায় দেখেছিলাম,আর তোমায় দেখেই মনের মাঝে অনুভব করলাম সারাটা জীবন যদি তোমার হাতে হাত রেখে সাথে সাথী করে চলতে পারতাম,তোমায় মনের কথা জানালাম,তুমিও তো হাসি মুখে গ্রহন করলে।এর পর
দিন গুলো ছিল আমাদের স্বপ্নের মত,কিন্ত কিছু দিন পারহতেই তুমি জানালে আমায় ভালবাসনা,তত দিনে আমার যা কিছু ছিল তোমায় দিয়ে দিয়েছি।থাক আর সে কথা বলতে চাই না,আজ পাচটি বছর হয় কাঁদছি,চোখের জল ও শেষ এখন শুধুই রক্তক্ষরন বাঁকী,আশা করি এতেও তুমি নিস্প্রভ থাকবে ঠিক আগের মত করেই।আমার প্রিয় ভালবাসার
মৌটুশী,,
তুমি যখন যা বলেছ মেনে নিয়েছি,কখনো কোনো জোর করিনি,আজ একটা অনুরোধ করবো রাখবে?কাউকে ভালবাসার আগে অথবা কাউকে ভালবাসতে দেওয়ার আগে আর একটু ভেবে নিও?আমার মত আর কাউকে কাছে আসতে দিয়ে পড়ে নিজে ঠকে যেওনা।আর ভালবাসা যদি সত্যিই শুধু খেলা ভাবতাম তবে মনে রেখো আমি তোমার নিকট বার বার আমার ভালবাসার দাবী নিয়ে দারাতাম না।মানুষ কে ভালবাসতে না জানলেও মানুষের মন টাকে শ্রদ্ধা করতে জেনো।
মৌটুশী
জানা নেই কেন গেলে কি ভুলে আমায় দূরে রাখছো,তবে সব ভুলের ক্ষমা হয় হয়তো এমন ভুল করিনি যার ক্ষমা হয় না।তবুও বলবো আমার এই চিঠি শুধু তোমার জন্য,যদি পারো সব ভুলে সুখে থেকো তুমি যে ভাবে সুখে থাকতে চেয়েছ।তখনো ভালবাসতাম আজও বাসি তাই আপন করে জড়িয়ে রাখবো হৃদয় ঘরে সেখানে হয়তো তোমার বর্তমান উপস্থতি থাকবেনা, তোমার নির্বাক  স্মীতিরা থাকবে।যাদের নিয়ে ছিল আমার তুমাহীন পথচলা,মৌটুশীর স্মৃতি আর  মিজান তত দিন থাকবে যত দিন নিঃশ্বাস থাকবে,কারন মৌটুশী শুধুই মিজানের সেখানে হয়তো আর কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হওয়া জীবিত মৌটুশী আর থাকবে না।কদিন যাবৎ জীবনের তৃতীয়  অধ্যায় শুরু করিবার  জন্য পরিবার হইতে চাপ দেওয়া হচ্ছে...
যে শব্দটা মুখ হইতে বাহির করিবার জন্য এতদিন অপেক্ষা করিয়াছেন  তাহারা, পারেনি। তোমাকে পূনরায় পাবার পর অমনেই পাগলের মত বলিয়া আজ আমি স্তব্দ হইয়া গিয়েছি।আমার মা অসুস্থ মাঝেমাঝে  তাই সবাই  চাপ দিত বিয়েটা করার জন্য তবে সেটা সম্ভব হত না কেন জানো,আমার উদ্দেশ্য ছিল না।আমার একটাই চিন্তা  ছিল যে একটু সাবল্মবী হয়ে তোমার নিকট যাবো।হয়েছেও তাই....
কিন্তু আমার জানাছিল না যে ভালবাসায় অপেক্ষা বলতে কীছু  নেই।
অতএব:আমার ভালবাসার মানুষটির মৃত্যু ঘটাইল সে নিজেই...!
তুমি হয়তো বিসাশ্ব করবে না কথা গুলো লিখার সময় কতটুকু কান্না আমাকে করতে হয়েছে।
তোমার স্থানে অন্য কোনো  নারীকে বসাবো এটা কখনোই ভাবতেই পারিনি।আজ আমাকে এমনই এক জন্তনায় ফেলেছো তুমি,,,!কদিন যাবৎ  পাগলের মত হইয়া গেছি আমি..
সকল বন্ধুরা আমার থেকে সরে গেছে, বাসার থেকে বিয়ের প্রেসার।অনেক চেষ্টা  করলাম তোমাকে বুঝাতে,তোমাকে নিয়ে চিন্তায় থাকি সারাদিন।গত একমাস হবে হয়তো চিন্তার ঔশুধ সিগারেটকেও চিরতরে বিদায় বলে দিয়াছি.....!
তোমাকে বুঝানোর মত আমার আর কীছুই নেই।
দীর্ঘ সাত বছরের  প্রেমের অবসান ঘটাই আজ (০৪-০৯-২০১৬ইং)একটি কবিতার কথায়.........

সুরঞ্জনা ,অইখানে যেয়োনাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা অই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনাঃ
নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে;
ফিরে এসো এই মাঠে , ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূর - আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়োনাকো আর।
কী কথা তাহার সাথে? -তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মত তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।
সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস-
আকাশের ওপারে আকাশ।
(আকাশলীনা – জীবনানন্দ দাশ)