মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬

যদি দেখা হয় তার সাথে।

যদি
আবার দেখা হয় তার সাথে
তবে বলে দিও তারে
এ কবি হারিয়ে গেছে আশ্বিনের কালে।
চোখ দুটো ঘোলাটে হয়েছিল তার
নীল মনি হয়েছিল ধুসর বরণ
কুচকে যাওয়া চামড়ার ফাকে যে লোম
সেগুলোও হয়েছিল দূর্ভিক্ষের কারণ ।

মাতাল হাওয়ার উপস্থিতি ছিল সেদিন
মেঘ-বৃষ্টিও করেছিল ভীষন
সে সব ছুঁয়েও দেখেনি সে
চেয়েছিল, কেউ হাতে হাত রেখে বলুক
মেঘ হব, বৃষ্টির কারণ।


যদি আবার দেখা হয়
তবে বলে দিও
রঙ্গিন প্রজাপতির ডানায় যে স্বপ্ন
তার সাথে করেছিল সে আড়ি
কালো চশমার ফ্রেমে
সুতো ছেরা বোতামে
বন্দি করে রেখেছিল সে।

হাতে হাতঘড়ি ছিল সেদিন
দু’চারটে ছেঁড়া স্যন্ডেল ছিল আসেপাশে
দেখেনি সে, দেয়নি কোনো উত্তর
সুধু চেয়ে ছিল পথপানে,
কালো মেঘে ঢাকা ধুসর আসমানে।

যদি আবার দেখা হয়
তবে বলেই দিও
কোনোদিন সুখ চায়নি সে
রাতের জ্যোৎস্না চেয়েছিল এতটুকু
এক আঁচল জোনাকির আলো তার সাথে
দুচারটি কবিতার লাইন
আর চোখে চোখ মাখা আদর,
নেহাতই সামান্য দাবী ছিল তার।


এক আকাশ রঙধনু ছিল সেদিন
নক্ষত্রের আলোয় রাঙা রাত
সে সব চায়নি সে, খোজেনি,
শুধু চেয়েছিল এতটুকু,
ভীষণ আবেগ মাখা নরম দুটি হাত।

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিশ্বাস




"বিশ্বাস" আসলে কি?//

আমি যেটা জানি সেটাই কি বিশ্বাস?
যেটা আমার কাছে নিশ্চিত সত্য, বিশ্বাস কি সেটাই?

আমি একবার আমার এক শিক্ষককে বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তার উত্তরটা ছিল এ রকম ।
"ব্যক্তি, সমাজ, বক্তব্য, বিষয়,জগৎ,স্রষ্টা, জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা যে ভিত্তিমুলক ধারনা পোষন করি, যে ধারনার উপর নির্ভর করে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করি...আমি মনে করি তাই বিশ্বাস। এটাকে মুখের কথা, মনে পোষন অথবা কাজ করার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা যায়। এক এক স্থানে এক এক রুপে এর গুরুত্ব প্রকাশ পায়।
দুধ সাদা, ফুল সুন্দর, পাখি উড়তে পারে...এরকম যার যা চরিত্র তা মেনে নিয়ার নামই বিশ্বাস।"

আমি যেটা দেখেছি অথবা জেনেছি যে" এটা নিশ্চিত সত্য" সেটা কেন "বিশ্বাস" হতে যাবে??
এটাতো জ্ঞান।
বিশ্বাসের ব্যাপারটা তো তখনই আসবে যখন আপনি সন্দিহান হয়ে পড়বেন।যেটা আমি/আপনি নিশ্চিত ভাবে যানি না অর্থাৎ যেখানে সন্দেহের অবকাশ আছে সেখানেই তো আমরা "বিশ্বাস" শব্দটা ব্যবহার করি।

মাটিতে রাখা একফুট চেপটা তক্তার উপর দিয়ে যদি আমাদের হাঁটতে বলা হয় তাহলে আমরা অনায়াসেই সেটা করতে পারবো । কেউ কেউ হয়তোবা দৌড়েই পার হয়ে যাবে। কিন্তু সেই তক্তা যদি দুটো বিল্ডিং এর ছাদে বসানো হয় তখন কি আমরা অনায়াসে সেটা করতে পারবো ??
প্রথম ক্ষেত্রে আমরা পারি কেননা আমাদের বিশ্বাস আছে যে...পড়ে যাবো না। কিন্তু ছাদে বসানো তক্তার ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাস আর থাকে না। এ থেকে বুঝা যায়, আমাদের সাহসের উপরও বিশ্বাসের একটা প্রভাব রয়েছে ।

বিশ্বাস এবং সন্দেহের মাঝে দারুণ একটা সম্পর্ক আছে।সন্দেহ কম করি মানেই বিশ্বাস করি।আবার বিশ্বাস কম করি মানেই সন্দেহ করি।যেখানে সন্দেহ নেই সেখানে আর "বিশ্বাস " শব্দটা আসবে না।

কোন বৃত্তের পরিধির কোন এক বিন্দুর পরের বিন্দু হতে যদি সন্দেহকে কমাতে শুরু করি,তাহলে তার বিপরীত পাশে অবস্থিত বিন্দুটি থেকে বিশ্বাসের আরম্ভ হবে।আর বিশ্বাসের চুড়ান্ত বিন্দুটিকে আমরা সত্য হিসেবে ধরে নিবো। আবার সন্দেহ যখন চুড়ান্ত হবে তখন তার অবস্থান আরম্ভ বিন্দুর পিছনে হবে।অর্থাৎ সত্য।

কেউ যদি মিথ্যাকে চুড়ান্ত ভাবে বিশ্বাস করে সেটাও তার কাছে সত্য।অর্থাৎ কেউ যদি সন্দেহ অথবা বিশ্বাসের মাধ্যমে কোন বিষয়ে নিশ্চিত হয় তখন সেটাই তার জ্ঞান।

অতএব এটা বলাযায় যে.....
/"জ্ঞান যদি কোন বইয়ের মলাট হয় সেই বইয়ের পাতা গুলো বিশ্বাস আর সন্দেহে ভরপুর "/

সুতরাং বিশ্বাসের সংঙ্গা টা এভাবে দেওয়া যায়...
"কোন বিষয়ে সন্দেহের পরিমান কম থাকাকে বিশ্বাস বলে"। বিশ্বাস আমাদেরকে সাহসী করে।

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অদ্ভুত

আচ্ছা! আপনাকে কি কেউ কখনো খুব উৎসাহ দিয়ে অনেকদূরের পথে নিয়ে গিয়ে পরে একা ফেলে রেখে চলে এসেছিলো? আপনি হয়ত যেতেই চাইছিলেন না, কিন্তু আপনার সঙ্গীটি আপনাকে অনেক উদ্দীপনা দিয়ে নিয়ে গেলো পথ ধরে। অথচ হঠাৎ একসময় যখন পিছনে ফিরে চাইলেন, দেখলেন যতদূর চোখ যায় আপনি ধূ-ধূ পথের উপর একা! সে আপনাকে ফেলে চলে গেছে!

আপনাকে কি কেউ কখনো অনেক ভালোলাগার অনুভূতি দিয়ে তারপর অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছিলো? যে কষ্টের পরে মনে হচ্ছিলো আপনার সমস্ত সত্ত্বাটাই ক্ষুদ্র, মিথ্যে, ভুল। আপনি হয়ত মানুষ হবার ন্যুনতম যোগ্যতাটুকুও রাখেন না! অথচ দিব্যি অনেক প্রগাঢ় ঘৃণা ছিটিয়ে দিয়ে সে হারিয়ে গেলো শেষে…

ব্যস! এরপর আর কিচ্ছু না। এরপরের অনুভূতিগুলো অনেকটা মহাকাশযাত্রার মতন। মহাশূণ্যে যাবার মুভিগুলোতে স্পেসশীপের ভেতর থেকে দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর দিকে তাকিয়ে বুক ভরে যেই শূণ্যতা আসে– কেবল অমন কিছু অনুভূতি। উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকা কিছুটা হতবুদ্ধি হয়ে… প্রচন্ড শীতে হিম হয়ে আসা শরীরটার মতন অবশ হয়ে যাওয়া একদল অনুভূতিমালা। তারপর আবার সব অন্যরকম!

তাহলে এই কাহিনী বলার কারণ কী?
কোনো কারন নেই। স্রেফ বলতে ইচ্ছে হলো, এখনো রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে, এখানে সেখানে হঠাৎ মনে পড়ে যায়, কেউ একজন আসবে বলে আসেনি। কেউ একজন আসবে বলে অনেক আয়োজন করেছিলাম, সে কিছু না বলেই হারিয়ে গেছে। তার পুরোনো চিঠিগুলোতে আছে সুন্দর অনেক কবিতা, সুন্দরতম শব্দমালা। তার রেখে যাওয়া স্মৃতিতে আছে মুগ্ধ করা অনেকগুলো মূহুর্ত। অনেক স্পন্দন…

আপনাকে যদি কেউ এভাবে উদাস না করে দেয়, ধরে নিন কেউ একজন আছে, যার আসার কথা ছিল কিন্তু আসেনি। অথবা যার একটা চিঠি লিখার কথা ছিল, লিখেনি। দেখুন, বুকের ঠিক মধ্যখানটাতে কেমন একটা দ
লা পাক লেগে যায়। দলাটা ঠিক কষ্টেরও না, কেমন যেন। কেমন যেন সবাইকে লুকিয়ে একলা রাতে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে মন চায়। কেমন যেন হাতের সব কাজ ফেলে দিয়ে স্টেশনের সেই ছায়ার নীচের কাঠের সিটটাতে একলা বসে উদাস হয়ে যেতে মন চায়। অথবা কেমন যেন পড়ন্ত দুপুরে শীতের পাতা পড়ে ঢেকে যাওয়া রাস্তায় শুকনো পাতাগুলোর উপর মর্মর আওয়াজ তুলে হাঁটতে হাঁটতে একলা একলা হারিয়ে যেতে মন চায়!

অথবা রাতের আকাশটার দিকে তাকিয়ে কোন এক অদ্ভূত প্রতীক্ষা! পেছনে ফেলে আসা কষ্টকর অনুভূতিগুলো যখন বুকের বাঁ পাশটাতে চিনচিন করে ব্যথা দেয়… অমন করেই একটু উদাস হয়ে অপেক্ষা করতে করতে রাতের অনেকখানি পার হয়ে যাওয়া।

অদ্ভূত, তাইনা? কোনো কষ্ট না থেকেও শুধু শুধু কষ্ট পাওয়া! আসলেই অদ্ভূত।

রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ফিরে এসো....




শুনতে পেলুম, জাকির নায়েক আজ শুরু করেছে
ধর্ম নয়, মানবতার জয়গান!
আর রামদেব নাকি বলছে,
সবার উপরে মানুষ মহীয়ান!

এসবই নাকি মৌটুশী
তোমার জন্য,
হবে না কি তোমার পুনর্জন্ম!
তুমি নাকি ফিরে আসবে আবারও,
এই বিশ্ব চরাচর মুখরিত হবে
তোমার অনিন্দ্য সুন্দর হাসিতে,
আবারও ঝরবে আনন্দের ঝরনাধারা!

তুমি আসবে ফিরে বলে,
ভারতের সেই পাকা চুলদাড়ির দাদাবাবু বলছে,
‘প্রতিবেশী, সে তো স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়।'
আর বাংলাদেশের সেই কাঁচাপাকা চুলের দিদিভাই বলছে,
'জনগণ যা চাইবে, হবে তাই, জয় জনগণের জয়।'

তুমি নাকি ফিরবে আবারও হয়ে বাঙ্গালী নারী,
জন্ম নেবে কোন এক নীভৃত পল্লিতে,
সবুজ শাড়ি, চুলে বেণিতে আর নগ্ন পায়ে
ছুটে বেড়াবে বিস্তৃর্ণ তৃণভূমি, সরিষার ক্ষেত,
দুহাত বাড়িয়ে করবে আদর কোমল মেষ শাবকটিকে।
তোমার হাসির কলকাকলী ছড়িয়ে পড়বে
পথে-প্রান্তরে, শহরে-নগরে, বিশ্ববিদ্যালয়-সচিবালয়, মসজিদ-মন্দির সবখানে
আর একে১৯, গ্রেনেড, ছুরি আর চাপাতিগুলো
সেরদরে বিক্রি হবে রদ্দিওয়ালার দোকানে।

তুমি নাকি ফিরে আসবে, তাইতো দেখি
অনলাইনে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে
ক্রাশ খেয়ে নিবরাসের মতো কেউ
ফিরে আসছে জঙ্গিবাদের জমকালো অন্ধকার থেকে
আর বলছে, ভালবাসার চেয়ে বড় আর কিছুই নেই পৃথিবীতে।

ভালবাসাময় ধরাচলে আলো আশা হয়ে ফিরে এসো মৌটুশী
আর জানিয়ে দাও,
প্রকৃত ভালবাসা কখনো মরে না, মরেনা স্বপ্ন, মরে না শুভবোধ,
পূবের উদিত সূর্যের মতই সে ফিরে আসে বারবার!

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অনুভব




জানি আমি, এখনো তুমি আমায় খোঁজো
ভুল করে লুকিয়ে স্বপ্ন দেখে ফেলো
হয়তো তোমার হৃদয়ে এখন, নতুন ফুলের সুবাস
স্মৃতি তোমায় তাড়িয়ে বেড়ায়, এটা আমার বিশ্বাস।

কতো কিছুর মিথ্যে আয়োজন শেখায় বেঁচে থাকা
কেউ জানবে না, অনেক কথা রয়েছে জমা।
দিনের শেষে খুব নীরবে আমরা দু'জন একা
চাচ্ছি না তবুও, হয়ে যাক আরো একবার দেখা।

সময়ের নিষ্ঠুরতায় বিধাতা এঁকে দিয়েছেন নতুন ভাগ্য
বলো, কে জানতো ! এটাই ছিল আমাদের প্রাপ‌্য।

ভালবাসা কম বেশী

কিছু মানুষ নির্দিষ্ট করে ভালবাসে,
আমি তোমায় সেই নির্দিষ্ট করে ভালবাসতে পারি না,
আমার ভালবাসায় আরও অন্যত্র থাকে,
মা যখন জ্বরের সময় রাত জেগে আমার পাশে বসে থাকেন,
বাবা যখন রাত না দিন না ভেবেই দৌঁড়ে চলে যান আমার জন্য ডাক্তার ডাকতে,
তখন আমাকে বলতেই হয়, মা আমি তোমাকে ভালবাসি,
বাবা তোমাকেউ আমি ভালবাসি।
ছোট বোনটি যখন আমাকে বাঁচানোর জন্য মায়ের কাছে মিথ্যে বলে,
বোনটি যখন আমার রাতে ফিরা না অবধি খাবার মুখে না দেয়,
তখন জল ভরা আঁখিতে বলতেই হয়,
তদের আমি অনেক ভালবাসি।
গ্রীষ্মকাল, গরমে ভ্যাপসা চারপাশ, ঘামে ভেজা শরীর,
হঠাৎ দক্ষিণা বাতাস এসে আমার ক্লান্ততা মুছে দিল,
তখন আমাকে বলতেই হয়, এই বাতাসকে আমি খুব ভালবাসি,
এই জানালা, এই ব্যালকনি, করিডোর আমি খুব ভালবাসি।
চারিদিকে যখন চৈত্রের রোদ, সূর্যের তাপে দাবানলের যন্ত্রণা পরিবেশে,
তখন নেমে এলো ঝোম বৃষ্টি, চারপাশ রিমঝিম শব্দে বিভোর,
ঠিক সে সময়, বৃষ্টির ফোটা গায়ে মেখে, কিছুটা জল ছিটিয়ে মুখে আমাকে বলতেই হয়,
এই বৃষ্টি আমি খুব ভালবাসি, সামনের কৃষ্ণচূড়া যে বারবার বৃষ্টির জলে দুলছে-
সে অপরূপ দেখে আমি ভালবাসি না বলে থাকতেই পারি না।
মধ্যরাতের চন্দ্রবিলাশ, তারাবিলাশ, জোনাকিবিলাশ,
যাদের সাথে কথা বলে আমার নিসঙ্গী রাত কেটে যায়,
ফুল দেখে যখন আমার নিরবেই মন ভাল হয়ে যায়,
তখন সে সব কিছুর উপর আমার ঋণের দায়ভার কমাতে হালকা করে বলতেই হয়,
তোমাদের আমি অনেক ভালবাসি।
এতকিছুর পরে আমি তোমাকে ঠিক নির্দিষ্ট করে বলতে পারি না,
নির্দিষ্ট করে বলতে চাইও না যে,
আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি, তোমাকেই শুধু চাই।

তোমাকে কতটা ভালবাসি যদি জানতে চাউ তবে তাদের জিগ্ঘেস কর...

 আমি একা একটি মানুষ আমার যতটুকু ভালবাসা আছে সবগুলো তোমাদের মাঝে ভাগ করে দিতে চাই।
কারো থলেতে কম হলে ভেবনা ভালবাসি না!
কারন...
 সবাইকেই আমার ভালবাসতে হয়...