মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রুপকথার একটি সাদা কাগজ

একটি সাদা কাগজ।না শুধু সাদা কাগজ না।এক দিস্তা একটি খাতা।ধবধবে সাদা, আজই কেনা মাত্র ২০টাকা দিয়ে।কিন্তু খাতার প্রথম পাতায় কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না।বারবার চিন্তা করছি কি লিখবো? এমন সময় একটি ম্যাজিকের কথা মনে পরে যায়।না ম্যাজিক না, বলতে গেলে একটা মজার খেলা।ঠিক যেমন কথা তেমন কাজ।তরিঘরি করে কিছু লিখলাম,এভাবে প্রথম পৃষ্টা থেকে বেশ কয়েকটি পৃষ্টা লেখার পর আর কেন জানি লিখতে পারছি না।হয়তো মনের অসুখ নতুবা অন্য কিছু।এর পর দেখা গেলো সেই প্রথম পৃষ্টা, মানে যেটাতে কি লিখবো করে ভাবছিলাম সেই পৃষ্টা টি খাতার উপরে নেই।ওটা ওখান থেকে ছিড়ে ফেলেছি।কাগজটার অবস্থান এখন ময়লার ঝুড়িতে।হয়তো ভাবছেন কেন এমন? যে পাতাটাতে কি লিখবো লিখবো করে অস্থির সেটা কেন ওখানে? তার কারন ওটা খাতার প্রথম পাতা হওয়ায় হাতের ঘাম,বাইরের ধূলো-ময়লা ইত্যাদি ইত্যাদি লেগে ওটা দেখতে কুৎসিত হয়ে গেছে।ওটা টেবিলে দেখতে খারাপ দেখাচ্ছে।অথচ একবারের জন্যও ভাবিনি যে, এতোদিন ধরে অযতনে পরে থাকা খাতাটাকে যে পাতাটা আগলে রাখলো, নিজে নোংরা হয়ে বাকি পাতাগুলো যত্নে রাখলো, আর সেই পাতাকে অবহেলায় পড়ে থাকতে হলো ওখানে।ভূলে গেছি ঐ পাতাটার কথা।ঠিক তেমনি মানুষ ও স্বার্থপরের মতো জিবনের প্রথম হাতিয়ার কে শেষ পর্যন্ত ময়লার বাক্সে ফেলে দেয়।একটু চিন্তা করে না, যার জন্য তার সব ধবধবে সাদা হয়ে থাকে আর তাকেই? হায়রে নিয়তি!

স্বার্থপরকেই আমি ভালবাসি

শৈশবে এক মেঘবালিকার দেখা পেয়েছিলাম।
মেঘে মেঘে ছুটে বেড়াত মেঘবালিকা।
আমাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যেত সেই মেঘের দেশে।
এ যেন অন্যজগত চারিদিকে ফেনা ফেনা মেঘ, যেন স্বপ্নের এক দেশ।

শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে আমি এখন যৌবনে,
মেঘবালিকাও আর আগের মত নেই,
সবাই তাকে এখন বৃষ্টি বলেই জানে।
আমার হৃদয় যখন খরতাপে উতপ্ত,
ঠিক তখন বৃষ্টি তার শীতল পরশে আমায় ভিজিয়ে দিত।
সে কি বৃষ্টি! উন্মাতাল এলোমেলো বৃষ্টি!!!
আহা!! কি যে সুখ!!!

শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টি এবার বর্ষা রূপে দেখা দিল!
বর্ষার অবিরাম বর্ষণে সব কিছু ভিজে একাকার.........
সময় সময় ভাবতাম, আহ!!! বর্ষা! এবার শান্ত হও।
কিন্তু বর্ষা শান্ত হয়নি, থামেনি সে.........

এখন তার নাম বন্যা!!!!
বানের জলে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে শুনশান এক নিঃসঙ্গ দ্বীপে।
যেখানে আমার সঙ্গী শরতের নীল আকাশ, আর সাগরের নীল রঙ।
নীলে নীলে আমিও নীল হয়ে তবু জীবিত।

মেঘবালিকা-বৃষ্টি-বর্ষা-বন্যা যে নামেই ডাকি, কেউ নেই এখন।
অতঃপর সে এখন নারী!!!!
তার স্বপ্নলোকে বসৎ করে ভীন রাজ্যের রাজপুত্র,
যে তার ইচ্ছা আকাঙ্খাগুলোকে সোনায় মূরিয়ে দেবে!