মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিশ্বাস




"বিশ্বাস" আসলে কি?//

আমি যেটা জানি সেটাই কি বিশ্বাস?
যেটা আমার কাছে নিশ্চিত সত্য, বিশ্বাস কি সেটাই?

আমি একবার আমার এক শিক্ষককে বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তার উত্তরটা ছিল এ রকম ।
"ব্যক্তি, সমাজ, বক্তব্য, বিষয়,জগৎ,স্রষ্টা, জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা যে ভিত্তিমুলক ধারনা পোষন করি, যে ধারনার উপর নির্ভর করে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করি...আমি মনে করি তাই বিশ্বাস। এটাকে মুখের কথা, মনে পোষন অথবা কাজ করার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা যায়। এক এক স্থানে এক এক রুপে এর গুরুত্ব প্রকাশ পায়।
দুধ সাদা, ফুল সুন্দর, পাখি উড়তে পারে...এরকম যার যা চরিত্র তা মেনে নিয়ার নামই বিশ্বাস।"

আমি যেটা দেখেছি অথবা জেনেছি যে" এটা নিশ্চিত সত্য" সেটা কেন "বিশ্বাস" হতে যাবে??
এটাতো জ্ঞান।
বিশ্বাসের ব্যাপারটা তো তখনই আসবে যখন আপনি সন্দিহান হয়ে পড়বেন।যেটা আমি/আপনি নিশ্চিত ভাবে যানি না অর্থাৎ যেখানে সন্দেহের অবকাশ আছে সেখানেই তো আমরা "বিশ্বাস" শব্দটা ব্যবহার করি।

মাটিতে রাখা একফুট চেপটা তক্তার উপর দিয়ে যদি আমাদের হাঁটতে বলা হয় তাহলে আমরা অনায়াসেই সেটা করতে পারবো । কেউ কেউ হয়তোবা দৌড়েই পার হয়ে যাবে। কিন্তু সেই তক্তা যদি দুটো বিল্ডিং এর ছাদে বসানো হয় তখন কি আমরা অনায়াসে সেটা করতে পারবো ??
প্রথম ক্ষেত্রে আমরা পারি কেননা আমাদের বিশ্বাস আছে যে...পড়ে যাবো না। কিন্তু ছাদে বসানো তক্তার ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাস আর থাকে না। এ থেকে বুঝা যায়, আমাদের সাহসের উপরও বিশ্বাসের একটা প্রভাব রয়েছে ।

বিশ্বাস এবং সন্দেহের মাঝে দারুণ একটা সম্পর্ক আছে।সন্দেহ কম করি মানেই বিশ্বাস করি।আবার বিশ্বাস কম করি মানেই সন্দেহ করি।যেখানে সন্দেহ নেই সেখানে আর "বিশ্বাস " শব্দটা আসবে না।

কোন বৃত্তের পরিধির কোন এক বিন্দুর পরের বিন্দু হতে যদি সন্দেহকে কমাতে শুরু করি,তাহলে তার বিপরীত পাশে অবস্থিত বিন্দুটি থেকে বিশ্বাসের আরম্ভ হবে।আর বিশ্বাসের চুড়ান্ত বিন্দুটিকে আমরা সত্য হিসেবে ধরে নিবো। আবার সন্দেহ যখন চুড়ান্ত হবে তখন তার অবস্থান আরম্ভ বিন্দুর পিছনে হবে।অর্থাৎ সত্য।

কেউ যদি মিথ্যাকে চুড়ান্ত ভাবে বিশ্বাস করে সেটাও তার কাছে সত্য।অর্থাৎ কেউ যদি সন্দেহ অথবা বিশ্বাসের মাধ্যমে কোন বিষয়ে নিশ্চিত হয় তখন সেটাই তার জ্ঞান।

অতএব এটা বলাযায় যে.....
/"জ্ঞান যদি কোন বইয়ের মলাট হয় সেই বইয়ের পাতা গুলো বিশ্বাস আর সন্দেহে ভরপুর "/

সুতরাং বিশ্বাসের সংঙ্গা টা এভাবে দেওয়া যায়...
"কোন বিষয়ে সন্দেহের পরিমান কম থাকাকে বিশ্বাস বলে"। বিশ্বাস আমাদেরকে সাহসী করে।

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অদ্ভুত

আচ্ছা! আপনাকে কি কেউ কখনো খুব উৎসাহ দিয়ে অনেকদূরের পথে নিয়ে গিয়ে পরে একা ফেলে রেখে চলে এসেছিলো? আপনি হয়ত যেতেই চাইছিলেন না, কিন্তু আপনার সঙ্গীটি আপনাকে অনেক উদ্দীপনা দিয়ে নিয়ে গেলো পথ ধরে। অথচ হঠাৎ একসময় যখন পিছনে ফিরে চাইলেন, দেখলেন যতদূর চোখ যায় আপনি ধূ-ধূ পথের উপর একা! সে আপনাকে ফেলে চলে গেছে!

আপনাকে কি কেউ কখনো অনেক ভালোলাগার অনুভূতি দিয়ে তারপর অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছিলো? যে কষ্টের পরে মনে হচ্ছিলো আপনার সমস্ত সত্ত্বাটাই ক্ষুদ্র, মিথ্যে, ভুল। আপনি হয়ত মানুষ হবার ন্যুনতম যোগ্যতাটুকুও রাখেন না! অথচ দিব্যি অনেক প্রগাঢ় ঘৃণা ছিটিয়ে দিয়ে সে হারিয়ে গেলো শেষে…

ব্যস! এরপর আর কিচ্ছু না। এরপরের অনুভূতিগুলো অনেকটা মহাকাশযাত্রার মতন। মহাশূণ্যে যাবার মুভিগুলোতে স্পেসশীপের ভেতর থেকে দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর দিকে তাকিয়ে বুক ভরে যেই শূণ্যতা আসে– কেবল অমন কিছু অনুভূতি। উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকা কিছুটা হতবুদ্ধি হয়ে… প্রচন্ড শীতে হিম হয়ে আসা শরীরটার মতন অবশ হয়ে যাওয়া একদল অনুভূতিমালা। তারপর আবার সব অন্যরকম!

তাহলে এই কাহিনী বলার কারণ কী?
কোনো কারন নেই। স্রেফ বলতে ইচ্ছে হলো, এখনো রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে, এখানে সেখানে হঠাৎ মনে পড়ে যায়, কেউ একজন আসবে বলে আসেনি। কেউ একজন আসবে বলে অনেক আয়োজন করেছিলাম, সে কিছু না বলেই হারিয়ে গেছে। তার পুরোনো চিঠিগুলোতে আছে সুন্দর অনেক কবিতা, সুন্দরতম শব্দমালা। তার রেখে যাওয়া স্মৃতিতে আছে মুগ্ধ করা অনেকগুলো মূহুর্ত। অনেক স্পন্দন…

আপনাকে যদি কেউ এভাবে উদাস না করে দেয়, ধরে নিন কেউ একজন আছে, যার আসার কথা ছিল কিন্তু আসেনি। অথবা যার একটা চিঠি লিখার কথা ছিল, লিখেনি। দেখুন, বুকের ঠিক মধ্যখানটাতে কেমন একটা দ
লা পাক লেগে যায়। দলাটা ঠিক কষ্টেরও না, কেমন যেন। কেমন যেন সবাইকে লুকিয়ে একলা রাতে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে মন চায়। কেমন যেন হাতের সব কাজ ফেলে দিয়ে স্টেশনের সেই ছায়ার নীচের কাঠের সিটটাতে একলা বসে উদাস হয়ে যেতে মন চায়। অথবা কেমন যেন পড়ন্ত দুপুরে শীতের পাতা পড়ে ঢেকে যাওয়া রাস্তায় শুকনো পাতাগুলোর উপর মর্মর আওয়াজ তুলে হাঁটতে হাঁটতে একলা একলা হারিয়ে যেতে মন চায়!

অথবা রাতের আকাশটার দিকে তাকিয়ে কোন এক অদ্ভূত প্রতীক্ষা! পেছনে ফেলে আসা কষ্টকর অনুভূতিগুলো যখন বুকের বাঁ পাশটাতে চিনচিন করে ব্যথা দেয়… অমন করেই একটু উদাস হয়ে অপেক্ষা করতে করতে রাতের অনেকখানি পার হয়ে যাওয়া।

অদ্ভূত, তাইনা? কোনো কষ্ট না থেকেও শুধু শুধু কষ্ট পাওয়া! আসলেই অদ্ভূত।

রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ফিরে এসো....




শুনতে পেলুম, জাকির নায়েক আজ শুরু করেছে
ধর্ম নয়, মানবতার জয়গান!
আর রামদেব নাকি বলছে,
সবার উপরে মানুষ মহীয়ান!

এসবই নাকি মৌটুশী
তোমার জন্য,
হবে না কি তোমার পুনর্জন্ম!
তুমি নাকি ফিরে আসবে আবারও,
এই বিশ্ব চরাচর মুখরিত হবে
তোমার অনিন্দ্য সুন্দর হাসিতে,
আবারও ঝরবে আনন্দের ঝরনাধারা!

তুমি আসবে ফিরে বলে,
ভারতের সেই পাকা চুলদাড়ির দাদাবাবু বলছে,
‘প্রতিবেশী, সে তো স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়।'
আর বাংলাদেশের সেই কাঁচাপাকা চুলের দিদিভাই বলছে,
'জনগণ যা চাইবে, হবে তাই, জয় জনগণের জয়।'

তুমি নাকি ফিরবে আবারও হয়ে বাঙ্গালী নারী,
জন্ম নেবে কোন এক নীভৃত পল্লিতে,
সবুজ শাড়ি, চুলে বেণিতে আর নগ্ন পায়ে
ছুটে বেড়াবে বিস্তৃর্ণ তৃণভূমি, সরিষার ক্ষেত,
দুহাত বাড়িয়ে করবে আদর কোমল মেষ শাবকটিকে।
তোমার হাসির কলকাকলী ছড়িয়ে পড়বে
পথে-প্রান্তরে, শহরে-নগরে, বিশ্ববিদ্যালয়-সচিবালয়, মসজিদ-মন্দির সবখানে
আর একে১৯, গ্রেনেড, ছুরি আর চাপাতিগুলো
সেরদরে বিক্রি হবে রদ্দিওয়ালার দোকানে।

তুমি নাকি ফিরে আসবে, তাইতো দেখি
অনলাইনে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে
ক্রাশ খেয়ে নিবরাসের মতো কেউ
ফিরে আসছে জঙ্গিবাদের জমকালো অন্ধকার থেকে
আর বলছে, ভালবাসার চেয়ে বড় আর কিছুই নেই পৃথিবীতে।

ভালবাসাময় ধরাচলে আলো আশা হয়ে ফিরে এসো মৌটুশী
আর জানিয়ে দাও,
প্রকৃত ভালবাসা কখনো মরে না, মরেনা স্বপ্ন, মরে না শুভবোধ,
পূবের উদিত সূর্যের মতই সে ফিরে আসে বারবার!

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অনুভব




জানি আমি, এখনো তুমি আমায় খোঁজো
ভুল করে লুকিয়ে স্বপ্ন দেখে ফেলো
হয়তো তোমার হৃদয়ে এখন, নতুন ফুলের সুবাস
স্মৃতি তোমায় তাড়িয়ে বেড়ায়, এটা আমার বিশ্বাস।

কতো কিছুর মিথ্যে আয়োজন শেখায় বেঁচে থাকা
কেউ জানবে না, অনেক কথা রয়েছে জমা।
দিনের শেষে খুব নীরবে আমরা দু'জন একা
চাচ্ছি না তবুও, হয়ে যাক আরো একবার দেখা।

সময়ের নিষ্ঠুরতায় বিধাতা এঁকে দিয়েছেন নতুন ভাগ্য
বলো, কে জানতো ! এটাই ছিল আমাদের প্রাপ‌্য।

ভালবাসা কম বেশী

কিছু মানুষ নির্দিষ্ট করে ভালবাসে,
আমি তোমায় সেই নির্দিষ্ট করে ভালবাসতে পারি না,
আমার ভালবাসায় আরও অন্যত্র থাকে,
মা যখন জ্বরের সময় রাত জেগে আমার পাশে বসে থাকেন,
বাবা যখন রাত না দিন না ভেবেই দৌঁড়ে চলে যান আমার জন্য ডাক্তার ডাকতে,
তখন আমাকে বলতেই হয়, মা আমি তোমাকে ভালবাসি,
বাবা তোমাকেউ আমি ভালবাসি।
ছোট বোনটি যখন আমাকে বাঁচানোর জন্য মায়ের কাছে মিথ্যে বলে,
বোনটি যখন আমার রাতে ফিরা না অবধি খাবার মুখে না দেয়,
তখন জল ভরা আঁখিতে বলতেই হয়,
তদের আমি অনেক ভালবাসি।
গ্রীষ্মকাল, গরমে ভ্যাপসা চারপাশ, ঘামে ভেজা শরীর,
হঠাৎ দক্ষিণা বাতাস এসে আমার ক্লান্ততা মুছে দিল,
তখন আমাকে বলতেই হয়, এই বাতাসকে আমি খুব ভালবাসি,
এই জানালা, এই ব্যালকনি, করিডোর আমি খুব ভালবাসি।
চারিদিকে যখন চৈত্রের রোদ, সূর্যের তাপে দাবানলের যন্ত্রণা পরিবেশে,
তখন নেমে এলো ঝোম বৃষ্টি, চারপাশ রিমঝিম শব্দে বিভোর,
ঠিক সে সময়, বৃষ্টির ফোটা গায়ে মেখে, কিছুটা জল ছিটিয়ে মুখে আমাকে বলতেই হয়,
এই বৃষ্টি আমি খুব ভালবাসি, সামনের কৃষ্ণচূড়া যে বারবার বৃষ্টির জলে দুলছে-
সে অপরূপ দেখে আমি ভালবাসি না বলে থাকতেই পারি না।
মধ্যরাতের চন্দ্রবিলাশ, তারাবিলাশ, জোনাকিবিলাশ,
যাদের সাথে কথা বলে আমার নিসঙ্গী রাত কেটে যায়,
ফুল দেখে যখন আমার নিরবেই মন ভাল হয়ে যায়,
তখন সে সব কিছুর উপর আমার ঋণের দায়ভার কমাতে হালকা করে বলতেই হয়,
তোমাদের আমি অনেক ভালবাসি।
এতকিছুর পরে আমি তোমাকে ঠিক নির্দিষ্ট করে বলতে পারি না,
নির্দিষ্ট করে বলতে চাইও না যে,
আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি, তোমাকেই শুধু চাই।

তোমাকে কতটা ভালবাসি যদি জানতে চাউ তবে তাদের জিগ্ঘেস কর...

 আমি একা একটি মানুষ আমার যতটুকু ভালবাসা আছে সবগুলো তোমাদের মাঝে ভাগ করে দিতে চাই।
কারো থলেতে কম হলে ভেবনা ভালবাসি না!
কারন...
 সবাইকেই আমার ভালবাসতে হয়...

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অপেক্ষা...

সেই দিনটি কবে আসবে?
যে দিনটির অপেক্ষা হয়ে আছে ছায়াসঙ্গী।

নির্জন বাগানের মধ্যে একটি চেয়ার-একটি টেবিল।
টেবিলে রাখা কফির মগ থেকে উঠছে সুগন্ধ ধোঁয়া।
সাদা পাতার উপর সুদৃশ্য কলম।
কোথাও থেকে আসছে প্রকৃতির মৃদু ছন্দ।

মাথায় গিজগিজ করা শব্দগুলো,
নির্ভাবনায় কাগজে দাগ কেটে চলেছে,
আমি ভারমুক্ত হচ্ছি। হচ্ছি ক্ষোভ মুক্ত।
প্রকৃতির ক্ষোভ। হৃদয়ের ক্ষোভ। প্রিয়তমার ক্ষোভ।

চিন্তাগুলো গভীর হচ্ছে। অনেক গভীর।
সব উগলে পড়ছে সাদা পাতায়।
আমি চিন্তা মগ্ন হচ্ছি। মগজ শীতল হচ্ছে না।

কষ্টের ঋণ শোধ হয়েছে না, সুদে-আসলে।
 ঋণযুক্ত জীবন দুখের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

শরীর নিস্তেজ হচ্ছে ধীরে ধীরে।
শেষ চেতনায় শুধু তোমায় ভালবাসার  ছন্দ...

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ভালবাসা অতীত ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান দেয়াল।

আজকে পায়ের নিচে যে মাটিটা আছে, সেটা
অন্যকোন মাটিও হতে পারত।
ভালো থাকুক জীবনের সব মুহুর্তগুলো, বেঁচে থাকুক দুঃখ-কষ্ট আর সুখের সকল স্মৃতি বুকের কোন গহীন কোণে বেঁচে থাকার স্পৃহা হয়ে।
-
এখন থেকে আজীবন যে জীবনটা অতিবাহিত করবো কীছুদিন আগে  ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার অনুকূল/প্রতিকূলতায় হয়তো বা সেটা ভিন্ন ররকমও হতে পারতো। কে জানে কোন জীবনটা উত্তম, এখন থেকে ভবিষ্যতে যে জীবনটা অতিবাহিত করবো সেটা, না যে জীবনটা কীছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পূর্বে থেকে অতিবাহিত করতাম সেটা...?
-
যেই তুমি অতীত হয়ে গেছো সেই  তুমি  শুধুই অতীত চাইলেও তা আর ফিরিয়ে আনতে পারবো না। আর যে জীবনটা এখন থেকে আজীবন অতিবাহিত করবো সেটা কেমন হবে সেই ভবিষ্যতটাও জানি না। কি হবে এত ভেবে এই অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে...! এই দুটোকে না মিলিয়ে থাকুক না কেউ মাঝখানে দেওয়াল হয়ে। হবই না হয় সেই কেউটা আমি নিজেই, অতীত-ভবিষয়তের মাঝে বর্তমানের দেওয়াল হয়ে। তুমি বাঁচ সারা জীবনের জন্য আর আমি বাঁচি শুধু আজকের জন্য, এই মুহুর্তের জন্য।
-
তুমি বাঁচ জীবনের ৫০/৬০টা বছর একসাথে, আমি না হয় ছোট্ট করে বাঁচবো, জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত, প্রতিটা সেকেন্ড। ঠিক যে ভাবে এক জন ক্লাইম্বার, স্কুবাডাইভার বা স্কাইডাইভার ডাইভের সময়ে সেই মুহুর্তের প্রতিটা সেকেন্ডেই নেয় বেঁচে থাকার স্বাদ। এই জীবনের প্রতিটা সেকেন্ডই যদি না বাঁচতে পারি, অপমান করা হয়ে যাবে যে জীবনের মূল্যটাকে। বেঁচে থাকার আনন্দটাই যে পৃথিবীর সব কিছু থেকে আলাদা।
-
ইয়েব, মানে, আপনি...?
কি দরকার এত অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবার ? তার চেয়ে বরং আপনি এই অতীত-ভবিষ্যতের মাঝখানে বর্তমানের দেওয়াল হয়ে বাঁচুন।"
-
আর এই যে শুনছেন..!? হ্যাঁ, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি।
এই যে এত কষ্ট করে পুরোটা লেখা পড়ছেন সে জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । কিন্তু এত কষ্ট করে এত সুন্দর একটা লিখা আপনার জন্যে আমি লিখছি তার জন্যে আমায় কি দিবেন...??
ভয় পাবেন না, বেশি কিছু না, শুধু প্রতিশ্রুতি দেন যে এখন থেকে আপনি জীবনের প্রতিটা মুহুর্তই বাঁচার চেষ্টা করবেন। বেশি কঠিন হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা...? আচ্ছা যান তাইলে শুধু আমার এই পোষ্টে লাইক,কমেন্ট শেয়ার না মাইরা চলে যান...!!  
আচ্ছা থাক, এত সুন্দর একটা পোষ্টের জন্যে একটা  মিথ্যাপবাদই দিয়া যান।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কবে ফিরবে তুমি...

দুজনার শহর জুড়ে আজ বৃষ্টি হচ্ছে, আমার বারান্দা ভিজে একাকার!
অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ভেজা বারান্দার দিকে তাকিয়ে তুমি উদাস
কান্নারত নদী দূরে বয়ে যায়, ভাসিয়ে নিয়ে আমার দীর্ঘশ্বাস
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামছে তোমার আমার শহরে
রাত্রি গাঢ় হলে পেতে ইচ্ছে করে খুব তোমার আচঁলের আদুরে ছোঁয়ায় উষ্ণ নিঃশ্বাসের আবেশ
আরও ইচ্ছে করে তোমার ভেজা চুলের গন্ধে মেতে শুরু হোক আমার প্রতিদিনের সকাল
এককাপ ধোয়া ওঠা চায়ের কাপে ঠোঁট রাখবো দুজন একসাথে!
হে অবুঝ রমণী প্রেমিকের এই আকুলতা কেন বোঝ না
একান্তই আমারই হয়ে থাকো তুমি প্রতিটি প্রহরে।

বুঝাতে অক্ষম কেন হই বার বার -- এ কি আমারই ভালোবাসার দুর্বলতা !
নাকি এখনো নিজেকে তোমার যোগ্য করে তুলতে ব্যর্থতা !!
প্লিজ ছিন্ন করে দিও না এই বন্ধন এ যে হবে আমার অস্তিত্ব সংকটের কারণ
পেরিয়ে পথের অনেক চড়াই --উৎরাই এসেছি দুয়ারে তোমার
কেন এতোটা নিষ্প্রাণ, নিস্তরঙ্গ আজ তুমি??

এমন করো না লক্ষীটি ! কাছে এসো--আমরা হাত ধরি।
বকুলের বনে ভিজে জবুথবু হই এক সাথে দুজন,
এসো প্লিজ --পাড়ি দেই জীবনের দুর্গম পথ সাথে করে
আর কখনো একাকী উড়বেনা ডানা মেলে সোনালি চিল,

অন্তর্যামী সাক্ষী -তোমাকে না পেয়ে কতোটা হাহাকার জমা করেছে এ হৃদয় !!

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রুপকথার একটি সাদা কাগজ

একটি সাদা কাগজ।না শুধু সাদা কাগজ না।এক দিস্তা একটি খাতা।ধবধবে সাদা, আজই কেনা মাত্র ২০টাকা দিয়ে।কিন্তু খাতার প্রথম পাতায় কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না।বারবার চিন্তা করছি কি লিখবো? এমন সময় একটি ম্যাজিকের কথা মনে পরে যায়।না ম্যাজিক না, বলতে গেলে একটা মজার খেলা।ঠিক যেমন কথা তেমন কাজ।তরিঘরি করে কিছু লিখলাম,এভাবে প্রথম পৃষ্টা থেকে বেশ কয়েকটি পৃষ্টা লেখার পর আর কেন জানি লিখতে পারছি না।হয়তো মনের অসুখ নতুবা অন্য কিছু।এর পর দেখা গেলো সেই প্রথম পৃষ্টা, মানে যেটাতে কি লিখবো করে ভাবছিলাম সেই পৃষ্টা টি খাতার উপরে নেই।ওটা ওখান থেকে ছিড়ে ফেলেছি।কাগজটার অবস্থান এখন ময়লার ঝুড়িতে।হয়তো ভাবছেন কেন এমন? যে পাতাটাতে কি লিখবো লিখবো করে অস্থির সেটা কেন ওখানে? তার কারন ওটা খাতার প্রথম পাতা হওয়ায় হাতের ঘাম,বাইরের ধূলো-ময়লা ইত্যাদি ইত্যাদি লেগে ওটা দেখতে কুৎসিত হয়ে গেছে।ওটা টেবিলে দেখতে খারাপ দেখাচ্ছে।অথচ একবারের জন্যও ভাবিনি যে, এতোদিন ধরে অযতনে পরে থাকা খাতাটাকে যে পাতাটা আগলে রাখলো, নিজে নোংরা হয়ে বাকি পাতাগুলো যত্নে রাখলো, আর সেই পাতাকে অবহেলায় পড়ে থাকতে হলো ওখানে।ভূলে গেছি ঐ পাতাটার কথা।ঠিক তেমনি মানুষ ও স্বার্থপরের মতো জিবনের প্রথম হাতিয়ার কে শেষ পর্যন্ত ময়লার বাক্সে ফেলে দেয়।একটু চিন্তা করে না, যার জন্য তার সব ধবধবে সাদা হয়ে থাকে আর তাকেই? হায়রে নিয়তি!

স্বার্থপরকেই আমি ভালবাসি

শৈশবে এক মেঘবালিকার দেখা পেয়েছিলাম।
মেঘে মেঘে ছুটে বেড়াত মেঘবালিকা।
আমাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যেত সেই মেঘের দেশে।
এ যেন অন্যজগত চারিদিকে ফেনা ফেনা মেঘ, যেন স্বপ্নের এক দেশ।

শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে আমি এখন যৌবনে,
মেঘবালিকাও আর আগের মত নেই,
সবাই তাকে এখন বৃষ্টি বলেই জানে।
আমার হৃদয় যখন খরতাপে উতপ্ত,
ঠিক তখন বৃষ্টি তার শীতল পরশে আমায় ভিজিয়ে দিত।
সে কি বৃষ্টি! উন্মাতাল এলোমেলো বৃষ্টি!!!
আহা!! কি যে সুখ!!!

শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টি এবার বর্ষা রূপে দেখা দিল!
বর্ষার অবিরাম বর্ষণে সব কিছু ভিজে একাকার.........
সময় সময় ভাবতাম, আহ!!! বর্ষা! এবার শান্ত হও।
কিন্তু বর্ষা শান্ত হয়নি, থামেনি সে.........

এখন তার নাম বন্যা!!!!
বানের জলে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে শুনশান এক নিঃসঙ্গ দ্বীপে।
যেখানে আমার সঙ্গী শরতের নীল আকাশ, আর সাগরের নীল রঙ।
নীলে নীলে আমিও নীল হয়ে তবু জীবিত।

মেঘবালিকা-বৃষ্টি-বর্ষা-বন্যা যে নামেই ডাকি, কেউ নেই এখন।
অতঃপর সে এখন নারী!!!!
তার স্বপ্নলোকে বসৎ করে ভীন রাজ্যের রাজপুত্র,
যে তার ইচ্ছা আকাঙ্খাগুলোকে সোনায় মূরিয়ে দেবে!





সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

নিরবতা যেখানে আশার প্রদীপ

হঠাৎ তুমি নীরব হয়ে গেলে কেন
তোমার নীরবতায় আমি আকস্মিকভাবে
তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছি
তুমি আমার অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারো নি।
সে যাই হউক! তোমার এমন নীরবতা
আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
আমার স্পর্শকাতর হৃদয় তোমার নীরবতা
ভাঙ্গবার চেষ্টায় অবসন্ন হয়ে পড়েছে
কিন্তু তবুও তোমার নীরবতা ভাঙ্গে নি!
এ কেমন নীরবতা তোমার!
তুমি এভাবেই নীরব হয়ে থাকতে চাও জীবনভর
তাহলে শুনো তুমি খুব বেশিদিন পারবে না
এভাবে নীরব হয়ে থাকতে
আমার হৃদয়ের আকণ্ঠ ঝরা একদিন তোমার
নীরবতা ভাঙবার প্রচেষ্টা করবেই।
সেদিন তোমার নীরবতার অবশ্যম্ভব ভাঙন হবে।
তুমি আবার আগের মতো আমার সাথে কথন করবে।
শুনে রাখো এই আমার নিটোল প্রত্যাশা।

আমি আর আমার অনুভূতি সঙ্কিত তুমি ও তোমার স্মীতিকে নিয়ে।

অনুভূতি গুলো কেন এত সঙ্কিত
একেন স্মৃতি হৃদয় পাতায়
স্বপ্নের আকাশে সুপ্তসুরে অঙ্কিত
কোথা হতে কে সে আসিয়া স্পর্শ করে যায়।

কিছুক্ষন পূর্বে যা শেষ হয়
তাতো অতীত হয়ে যায়
আমিও তো তাকে ভুলে গিয়েছি
কেন তবে সে স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাড়ায়?

আমি যাহা চাইলাম তাতো বৃথা হয়েছে
তাতে আমার আপত্তি বলতে কিছু নাই
কাউকে না কাউকে তো সে পেয়েছে
তবে আমি কেন স্বপ্নে পথে রূদ্ধ হয়ে যাই

চিত্তে যে জন ছিল সে তো কাহার বনিতা
আমি তো নিন্দ তাহার প্রেমাত্মার মনে
কেন মৃত আঙিনায় হানা দেয় সুদর্শীতা
কেন নির্বাক করে যায় ক্ষনে ক্ষনে!

প্রেমাত্মাকে সপিতে নবজনে
দূরবীত হয় না যে ঘনসিয়া;
হৃদে ভাসিয়া স্মৃতি সংগোপনে
সে যে মোর প্রেমাত্মাকে রাখিছে বাধিয়া।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিজয়ী তুমি



তোমাকে ভালবাসি এটাইই কি আমার বড় দোষ বল? তোমায় শুধু ভাল ই বেসেছি কিন্তু বিগত দিনগুলোতে মুখ ফুটে বলতে পারিনি, তোমার মুখোমুখি হওয়ার সাহস টুকু সন্চয় করতে পারিনি। জীবনের কতটা পথ এক সাথে পাড়ি দিয়েছি আমরা, তবু ও পারিনি কেন জানো? কারন আমি বার বার তোমার নিকট ধোকাবাজ হিসেবেই প্রমানিত হয়েছি।পুনরায় তোমার নিকট ফিরে আর কোন ভুল করার ইচ্ছেই আমার ছিলো না।মনে মনে ভাবতাম হটাৎ এমন একদিন তোমার সামনে গিয়ে দারাবো যখন তুমি হাজারো অপমান করবে আমি সেদিন আর হারাবো না।তোমার চোখ থেকে ঝড়া প্রত্যকেটি জলের মুল্য হয়তো আমি দিতে পারবোনা তবে তোমার দেয়া সকল শাস্তিই কবুল  করে নিবো। যদি আমাকে ভুলে অন্য কাউকে আপন করে থাকো তবে নিজ হাতে তোমাদের শান্তির নীড় আমি বানিয়ে দেব, কারন আমি তোমায়ই ভালবাসি।জানতাম তুমি আসবেনা আমার এই হাত ধরতে, কোনোদিন এসে জানার চেষ্টাও করবেনা কেন আমার এই পলায়ন।কোনো দিন এসে বলবে না ভুল যা হয়েছে তো হয়েছে  চলো এক সাথে জীবনের পথে চলি। যে ভালবাসার নাম লিখেছিলাম সিনেমার মত আমার রক্তাক্ত দেহের মাধ্যমে আমার সেই ভালবাসার পরিনতি নাকি যাকে ভালবাসি তাকে পাশে পাওয়ার ভরসা নাই তাহলে সে ভালবাসা কে ফুটিয়েছিলাম কেনো বল?

আচ্ছা তুমি কি কোনো দিন ও আমার মনের কথা গুলো বুঝতে পারনি? অামাদের সম্পর্কের কীছুদিন পর এসে তুমি বললে " তুমি হারিয়ে গেলে আমার কি হবে?আমি কিন্ত আত্মহত্যা করে ফেলবো.! তোমার কথাটা আমায় ভাবাতো সবসময়।আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমন ভাবে চেপে ধরেছিল যার কারনে তোমাকে কষ্ট দেয়া ছাড়া কীছুই ছিলনা।পদে পদে তোমাকে বুঝানোর  চেষ্টা করেছি আমাকে ঘৃণা করার জন্য কিন্ত পারছিলাম না।আমি যাই বলতাম তুমি তা সাধরে গ্রহন করে নিতে।ধীরে ধীরে আমি আরো দূর্বল হতে থাকি।কী থেকে কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না।তোমার বাচার পথটা দেখাইয়া আমাকে তোমার নিকট নগন্য বানিয়ে পালালাম আমি....!

এরই মধ্যে কেটেছে  পাচটি  বছর।জীবনের চলার পথ অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তুমিও আজ অনেকটা বদলেছ, বদলেছে ভালবাসার  আকাশ।
 পাচ বছরের মাঝে আমাদের আজো দেখা করা হয়নি,আমাদের কারর ই মুখ থেকে "I Love You" কথাটা বলা হয়নি যদিও আমারা ঠিক জানতাম দু জনের মনে আমরা দু জন আছি ভালবাসার জায়্গা টা দখল করেই, তাইতো তোমার সেই কথাটাকে আমি মজা ভেবে মজা করেই মুখে একটা ভরাট হাসি নিয়ে বল্লাম"হারিয়ে গেলে খুজে নিবা"
জান? তোমার কথাগুলো শুনার পর আমি আর পারিনি "ভালবাসি তোমাকে" বলতে। কদিন পর পর ফোন দিতে জানতে চাইতেম কেমন আছো কতটা ভুললা আমাকে? তুমি যে ইচ্ছে করে দেখা করছনা এই বুকটা ফেটে যাচ্ছিল জানো?যাকে আমি এত ভালবাসলাম সে কীনা এত সহজে আমাকে ভুলতে পারলো! একটা আকুতি নিয়ে একবার বলতে চেয়েছিলাম শুধু আমাকে একটু ঠাই দাও তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারছিনা। কিন্ত যখন বুঝতাম তুমি আমাকে ছাড়া বাঁচতে শিখে যাচ্ছ তখন আর কিছুই বলতে পারতাম না। হয়ত তুমি আমাকে চাওনি তাই আমার হারিয়ে যাওয়াটা মানিয়ে নিতে পেরেছিলে। যদি আমাকে চাইতে কোনও দিন ও আমাকে হারিয়ে দিতে না বরং আমার দুহাত শক্ত করে ধরে রাখতে সারা জীবনের জন্য। এই কথাটা বুঝার পর নিজেই হারিয়ে গেলাম অনেক দূরে কিন্ত তোমাকে হারানোটা মানতে পারছিনা আজো। তারপর থেকে আজও কত জল ঝরে যায় দুচোখে কিছুই জানো না তুমি। আজো ইচ্ছে জাগে একবার এসে সেই আগের মত বল মিজান কাদছ কেন? আমিও কাঁদব কিন্ত কান্না থামাও বলে অশ্রু মুছে দিতে।


আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম আমার আমিকে । আজও খুজে পাইনা সেই হারিয়ে ফেলা আমাকে যার একটা ছোট্ট মন ছিল ভালবাসার । আজ বেঁচে আছি মনহিনা একটা মূর্তি হয়ে যে আর কিছুই অনুভব করতে পারেনা। জানিনা আজও অবসরে আমাকে ভাবো কিনা? হয়ত ভাবলে ভাবো কোন এক সুখের ঠিকানায় বসে সুখী আছি আমি কিন্তু না আমি যে তোমার ফেরার পথ চেয়ে দিন গুনছি । যে মন তোমাতে হারিয়ে এসেছি তার কি আর বাচা হয় বল? বেচে তো ঠিক ই আছি কিন্ত তোমায় ভুলাটা হয়নি। কি করে হবে বল আমি যে আমার মাঝে শুধুই তোমাকে খুজে ফিরতাম ।তোমার স্মৃতি গুলো আমাকে এতটাই আঁকড়ে রেখেছিল যে পারিনি তোমার স্মৃতির দেয়াল ভেঙ্গে অন্য কারো হতে।

তুমি কি জান আজ আমার অবসর কাটে তোমার দেয়া স্মীতি স্মরন করে।
তুমি বড় অদ্ভুত তোমার সবই সাজানো হল।
শেষ টায় আমার সাদা_কালো ঘুড়ি তোমার সঙ্গে ঐ নীল আকাশে উড়বে বলে সেঝে এসে বিদায় বৃষ্টিতে ভিজে আমার চোখে রক্তখরন ঘটিয়ে তোমার পায়ে আল্তায় আলপনা একে দিয়ে অনেকটাই ভালবাসার মসলা দিয়ে তৈরী করা নাটাইয়ের মান্জা সুতুয় নিজেই  আত্মহতি দিলাম



__বাস্তবিক ঘটমান জীবনে প্রত্যেকটির পৃষ্টের অপর পৃষ্টে সত্যটা লুকানো থাকে,যদি কেহ্ জানার চেষ্টা করে তবেই সেটা খুজে পায়।__

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

তুমিও আজ সাদা কালো,আমার অলংকার।

মেঘে ঢাকা আকাশের ফাঁক গোলে
তোর মিষ্টি হাসিরা
রোদ হয়ে ঝরে!
ভোরের কোমলতায় ভেসে আসে
তোর চোখের স্নিগ্ধতা।
হেমন্তের বাতাসে খেঁজুর পাতার ছন্দ
মিশে একাকার তোর চলার ভঙ্গিতে!



আমার মনন জুড়ে ঢেউ খেলে
তোর সৌন্দর্য্যধারা,
অনুভূতিরা ভেজে তোর গন্ধে,
আমি ভুলে যাই তোকে ডুমুরের ফুলে,
সাপের পায়ে, অমাবস্যার চাঁদে।
তুই হয়ে যাস সময়ে-অসময়ে,
কারনে-অকারনে আমার শেষ নিশ্বাস...!

চলছে,চলূক না! আমার ভালবাসা তোমার স্মীতির প্রতি

সে দিন আষাঢ়ের রাত ছিল। চন্দ্র তার দর্শন দিতে ভুলে গেছে প্রায় সপ্তাহ হয়।
বিদঘুটে অন্ধকার....

অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম অম্র বৃক্ষের নিচে। তুমি কথা দিয়েছিলে, আসবে বলে।

কাক ভেজা হয়ে থাকা গাছগুলো হিংসায় জ্বলে ছাড়খার হচ্ছিলো।
তাচ্ছিল্লের সাথে ধিক্কার দিতাম, ওই বেহায়া চাহুনিতে!
সব কিছুই তুমি আসবে, কথা দিয়েছিলে বলে....

বৃক্ষগুলোর চক্ষু শূল ছিলাম, শুধুই তোমার কারনে।
স্পর্শ পেতে চাইতো তোমার নানা ছলে।

শহর জুড়ে নিস্তবতা। শেষ পাখির ডাক ও আর ভেসে আসছে না।
টুপ টাপ করে ফোটা ফোটা পানি পড়ছে ছাদের কার্নিশ থেকে......
নর কবুতরের গোংগানি শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট।
দাড়িয়ে আছি তুমি কথা দিয়েছিলে, আসবে বলে!!

হিংসায় জ্বলে মরা বৃক্ষ গুলো ফোটায় ফোটায় জ্বল ছুড়ে মারছে,
আমি শুধু আড় চোখে চেয়ে দেখছি, ওরা হিংসায় জ্বলছে............।।
সব কিছুই তুমি আসবে, কথা দিয়েছিলে বলে....

পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা নামলেই আমার ভিখু হয়ে যেতে ইচ্ছে করে কেন? ইচ্ছের রঙ-তুলি দিয়ে অন্ধকারের পিঠে পোট্রেট আঁকতে আঁকতে নিজেকেই প্রশ্ন করি-আমার ভেতর এতো খররোদ্রের দহন কেন? তোমায় মনে পড়লে আমার বুক কেন কেঁপে ওঠে?তোমায় হারানোর কথাটা স্মরণ হলে কেন আমার ভেতর ক্ষরণ ঘটে?


ভাবের জমিনে তোমার স্মীতির চাষাবাদ করতে আমার খারাপ লাগে না; তবে তোমায় কোনোদিন পাবো না কথাটা শুনলেই  সত্ত্বা নড়েচড়ে ওঠে! ধৈর্যের কলাবাগানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে নিজেকে শোধরাতে থাকি। চলছে, চলুক না!

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অন্ধকারে আলোকিত আমি সাদা কালো


একদিন চাঁদ রাতে, ঘুম ছিলনা দুটি আঁখিপটে, আলোয় আলোয় আলোকিত চারিপাশ;
বাহিরে তুমুল ঘ্রাণ অনুভবে ব্যাকুল ছিল আমার প্রতিটি নি:শ্বাস |

জোছনার ছড়াছড়ি ধূলি ধূসরিত আঁধার রঙা মেঠোপথ জুড়ে ছিল আলোছায়ার খেলা,
নি:সীম নিরবতায় কেউ নেই,শুধু আমি আর চন্দ্রিমা,পার করেছিলাম সেই মরিচিকা বেলা |

ঝাঁক বেঁধে জোনাকিরা মেতে ছিল উল্লাসে দীঘির পাড় ঘেসা চোরাকাঁটা ফুলঝাড়ে,
এখানেই চাঁদ আর জোনাকির অপরূপ মিতালী ক্লান্ত নয়নদ্বয়ের ঘুম কাড়ে |

ঝিঁ ঝিঁ ডাকা সেই রাতে টুপ টুপ ঝরে পড়া শেফালিরা কোথায় যেন ভেঙে চলেছিল নিরবতার পিন পতন,
ঘুমন্ত ধরার বুকে তাই মাঝ রাতে বেজেছিল শেফালির আর্তনাদের সাথে ঝিঁঝিঁর কীর্তন |

রাতজাগা বিহঙ্গরা ডানা ঝাপটে ঘুরেছিল এ ডাল ও ডাল প্রিয় সঙ্গীর প্রণয় সুখে,
মাধবীরা জেগে ছিল চুপিসারে আলোক সুধা পানের লোলুভ দৃষ্টি রেখে |

হঠাৎ যেন হরষে বিষাদের ছায়া বিদীর্ণ করেছিল সেই রাতের হৃদয়ের স্পন্দন,
রাত্রি গভীরকালে বহুদূর হতে ভেসে আসা নি:সঙ্গ কোন এক শৃগালের করুণ ক্রন্দন |

সেই হৈমন্তি রাতে ঝরে পড়া শিশির গড়েছিল ঘাসের চূড়ায় হিরক বাতির ঝাঁড় ,
দূর হতে তাই দিয়েছিল হাতছানি অপরূপ ঝলমলে বয়ে চলা এক নদীর পাড় |

নদীর চকচকে জলে দেখি কার যেন প্রতিচ্ছবি কেঁপে কেঁপে ভেসে ভেসে যায় কূল কূল রবে,
রাত্রি গভীর যত মাতাল হাওয়ারা তত এলোমেলো ছুঁয়ে যায়,গেয়ে যায় সেই গান কোন এক মাঝি গেয়েছিল যেন কবে |

সেই একদিন চাঁদ রাতে ব্যথা ছিলনা অন্তর ঘাটে,ছিল শুধু মধুময় স্মৃতির প্রহর,
আজও তাই অমলিন, মনে আছে সবকিছু,সে রাতের প্রতিটি দেখায় লাগিয়েছি সীলমোহর |

ঘুমিয়ে থাকা রবি জানেনিতো সেই কথা, যেকথা জেগেছিল রাত্রির বুক চিরে,
সেই একদিন চাঁদ রাতে জেগে থাকা চাঁদ আর জেগে থাকা আমি বসেছিলাম নদী তীরে শুধুই মোর সুধার খোজ করে...
মৌটুশী মোর বেচে আছে কেমন করে...

জীবনের অর্থ...



ঠিক ঠাক ভাবে চলা জীবন কেন জানি কিছু সময় নিজের অজান্তে
এলমেলো হয়ে যায়।ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা কেন এমন হয়। মনের মাঝে কোথাও হিম ভারি কোয়াশা জমাট ধোয়ার মতো করে উড়ে বেড়াচ্ছে।নীল আকাশ টা কেন জানি হঠাৎ করে ধুসুর ঘন কালো মেঘ ডাকা পড়ে গেছে । কিছুই ভাল লাগেনা তখন । মনে হয় আমি নিজে আর আমার আশে পাশে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। । মাঝে মাঝে মানুষের জীবনটা কেন এলোমেলো হয়েও যায় এই প্রশ্নেটা আমাকে অনেকে ভাবিয়েছে। ...
কিন্তু ভেবে কি হবে , এলোমেলো হওয়া টাই তো জিবনের নিয়ম। জীবন তো জীবন নিয়ম চলবে...

কেউ বলে জীবন মানে যন্ত্রণা, কারো মতে সুখ,

জীবন মানে কষ্ট, বলে কেউ কান্নায় ভাসিয়ে বুক ।

জীবন মানে মিছিল মিটিং, আন্দোলন আর ক্ষমতা,

এই মতামত পোষণ করেন সকল রাজনীতিকরা ।

জীবনের সঙ্ঘা দেয় ছিনতাইকারী আর চাঁদাবাজ,

গোলাগুলি,বোমাবাজি এই ছাড়া আর কি কাজ ।

জীবন মানে মুচকি হাসি, চোঁখে চোঁখ একটু ছোঁয়া,

শরীরে শিহরন, বুকে জড়িয়ে সোহাগ করা ;

জীবন মানে পাগলামি, হার-জিতের বাজি ধরা,

মতামত দিয়ে থাকেন টিনএজ তরুণ-তরুণীরা ।

জীবন হলো কবিতা, উপন্যাস আর গল্প,

ফুল পাখি আর প্রজাপতি, সুখ খুবই স্বল্প ;

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, মেঘমালা আর বৃষ্টি,

জীবন মানে সাহিত্য কর্ম, নতুন কিছু সৃষ্টি ।

জীবন মানে মনুষত্য, মনের শুভ দিক,

এসব কথা বলে থাকেন কবি-সাহিত্যিক ।

জীবন মানে তোষামোদি, হুজুর হুজুর প্রলাপ,

জীবন মানে স্বার্থসিদ্ধি, সুবিধাবাদীর মতামত ।

জীবন মানে হৃৎপিন্ড, স্পন্দন- ধুক ধুক,

এইডস আর ক্যানসার, মৃত্যুর যন্তণা ভোগ ।

বৃদ্ধ-বৃদ্ধা দিয়ে থাকেন জীবনের সঙ্ঘা-

জীবন মানে একাকীত্ব, অতীত স্মৃতি আর ব্যর্থতা...
জীবন মানি কিছু বলা কিছু না বলা গান,

জীবন মানে কষ্ট পেয়ে একটু অভিমান।

জীবন মানে কিছু সুখ আর কিছু হাসি ।
জীবন মানে দুঃখ কষ্ট দুটাই পাশাপাশি।

জীবন মানে কিছু স্বপ্ন কিছু মিথ্যা আশা।
জীবন মানে নিজের থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা।

জীবন মানে মান অভিমানের ছোট্ট ভালবাসা ।
জীবন মানে পাওয়া জিনিস না পেয়ে হয়ে যাওয়া হতাশা।

জীবনে মানে রঙ্গ মঞ্চের সবি বুঝি অভিনয়।
প্রহরে প্রহরে শুধ হয় মানুষের সাথে হয় নব পরিচয়।

অভিনয় করতে করতে একসময় জিবনের শেষ হয় ।
ভাল কিছু করলে সেটাই সুধু পৃথিবীতে রয়,
জিবনের মানে এই ছাড়া আর কিছু নয় ।
জীবন মানে যন্ত্রণা অনলে দহন । জীবন মানে শূন্যতা নিশার স্বপন । জীবন মানে ব্যর্থতা অরণ্যে রোদন । জীবন মানে অশান্তি আত্মসমর্পন । জীবন মানে যুদ্ধ অনবরত বোমাবর্ষন । জীবন মানে ষড়যন্ত্র বিপদে পলায়ন । জীবন মানে অভাব স্বভাবে পরিবর্তন । জীবন মানে দুঃখ কষ্ট প্রাণ বিসর্জন ।
জীবনের সঙ্ঘা দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ এই ভাবে...
জীবনে সুখের চেয়ে দুঃখের মুহূর্ত
বেশি...সুখটা ক্ষণস্থায়ী,
দুঃখটা দীর্ঘস্থায়ী ।
দুঃখটা কে অনুভব করার জন্যই জীবনে সুখের
আবির্ভাব ।
বিচিত্র জীবন টায় দুঃখ আছে বলেই
হয়তো সুখটা এত মধুর ।

জীবনের অর্থ বুঝতে গিয়ে জানতে পারলাম অনেক কীছু যা হাজার সত্য হলেও আমাদের জীবনে পূর্নাঙ্গ রুপ দেয়াটা বড়ই কষ্টকর।খুবই বাস্তব সত্য, মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ই হলো, বিশ্বাস-ভালবাসা-আশা কোন কিছুতেই কোন সীমাবদ্ধতা নেই, তাই আমাদের কষ্টের লাগামটারও সীমারেখা আঁকা যায় না।


জীবনের প্রতি মানুষের মায়া অপরিসীম, জীবনকে ভালোবাসে
বলেই এত দুঃখ-কষ্ট সংগ্রামের
মধ্যেও মানুষ বেচেঁ থাকে |

___ জর্জ হারবার্ট

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

জীবনের রং সাদা কালো

হাসি, আনন্দ, হতাশা আর দুঃখ এই সব কিছু নিয়েই জীবন। আমাদের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন আমরা নিজেদের বিফলতা এবং হতাশার দায়ভার নিজের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই। মনে মনে ভাবি আমার কাছে এই নেই, সেই নেই তাই আমার জীবনে সফলতা আসছে না। কিন্তু এই ধরনের চিন্তাই মূলত আমাদের সফলতার পথে বাঁধা।
জীবনকে যত কঠিন ভাবে নেয়া হয় সুখ তত দূরে চলে যায়। প্রতিটি মানুষ নিজের জীবনে কিছু নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে যা তার সফলতার পথে সবচাইতে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এই ব্যাপারটি আমরা নিজেই বুঝতে পারি না, বরং ভাগ্যকে দোষ দিয়ে থাকি সব সময়। কিন্তু এতে কোন লাভ নেই। ভাগ্যকে দোষ দিয়ে আমরা সত্য ঢাকতে পারবো না। তাই মেনে নিন জীবনের কিছু চরম সত্যগুলো। দেখবেন জীবনটা কত সহজ হয়ে গেছে। সফলতাও ধরা দেবে আপনার হাতে। সুখী হবেন জীবনে।
টাকা বেশি হলেই সুখী হওয়া যায় না
অনেকেই মনে করেন তার কাছে টাকা বেশি থাকলে তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন। জীবনে সফলতা আনতে পারতেন, মনের আশা পূরণ করতে পারবেন। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। টাকাপয়সা কখনো সুখ আনতে পারে না। আপনি যত টাকা পাবেন ততই তার পেছনে ছুটবেন। তাই টাকা হলেই সুখে থাকতে পারতেন এই কথা ভুলে যান। মেনে নিন বেশি টাকা
হলেই সুখী হওয়া যায় না এই সত্যকে।
আপনি যতক্ষণ না চাইবেন সফলতা আপনার হবে না
মানুষ নিজের মন থেকে কোন কিছু মনেপ্রাণে চাইলে কখনোই বিফল হয় না। আপনাকে দ্বারা কিছু হচ্ছে না, এতে আপনার ভাগ্যের ওপর দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। আপনাকে এর জন্য কর্মঠ হতে হবে। আপনার চেষ্টায় যতক্ষণ পর্যন্ত ত্রুটি থাকবে ততোক্ষণ আপনি সফল হবেন না। প্রথমে নিজের মনস্থির করুন। মেনে নিন এই সত্যটিকে।
আপনি কখনোই সবকিছু জানতে পারবেন না
নানান অজানা বিষয়ে চিন্তা করে মাথার চুল ছিঁড়ে এবং অজানা কিছুর পেছনে ছুটে সময় ব্যয় করা তখনই খাটে যখন তা আপনার পেশা হয়। কিন্তু আপনি আপনার মূল্যবান সময় শুধু চিন্তা করে কাটালে শুধুমাত্র দুশ্চিন্তারই উদ্রেক করবেন অন্য কিছু নয়। সব কিছু জানা একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় এই চিরন্তন সত্যটি মেনে নিন।
আপনি একেবারে নিখুঁত মানুষ হতে পারবেন না
মানুষ নিজেকে নিখুঁত করে তোলার পেছনে ব্যয় করে জীবনের অনেকটা সময়। আমরা ভাবি আমরা কোন না কোন সময় নিজেকে নিখুঁত করে তুলতে পারবো। যদি আপনি ইতিবাচক ভাবে এই কথাটি মেনে নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার কাজে খাটান তাহলে আপনি সফল হবেন। তা না হলে আপনার নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা আপনার জীবনকে করে তুলবে দুর্বিষহ। কারন সত্যি কথা হলো কারো পক্ষে নিখুঁত হওয়া সম্ভব নয়।
মানুষ সব সময় নিজের কথাই চিন্তা করে কাজ করে
আপনি আশেপাশের মানুষজনকে দেখে ভাবছেন সবাই অনেক স্বার্থপর। অনেকেই নিজেকে বাদে মানুষকে স্বার্থপর মনে করেন। কিন্তু চিরন্তন সত্য কথাটি হলো মানুষ যা করে সব সময় নিজের জন্য করে। পরোপকারী মানুষ আছেন কিন্তু অন্যের উপকারের মধ্যেও তার স্বার্থজড়িত থাকে। পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অতএব,তাহার ভালবাসার পরিসমাপ্তি ঘটাইল...







আজ লিখবো
ভালবাসার শেষ চিঠি .........
মৌটুশী,,আজ ইচ্ছে করছে কয়েক দিস্তা কাগজে তোমায় একটা প্রেমের চিঠি লিখতে।হয়তো আমি কবি নয় তাই কবিদের ভাষা না হোক আমার মনের ভাষায় লিখতে। হৃদয়ের কথা গুলো তুমি মন দিয়ে পড়বে আর হারিয়ে যাবে আমার ভালোবাসার গভীরে।আগেও তোমায়
চিঠি লিখেছি ,আজ লিখবো,আমার খুব ইচ্ছে,তোমার আমার প্রেমের কথা এমন করে লিখবো,যা তোমার চোখে পড়বে,আর তুমি তা পড়বে....
আমার মৌটুশী,,
কেমন আছ তুমি?নিশ্চয় অনেক ভাল আছ,সুখেই আছ।তোমার সুখের পথে আমি তো একমাত্র বাঁধা।এখন আমি নেই,নেই কোনো অস্তিত্ব কিংবা এমন কোনো স্মৃতি,যা তোমার সুখ স্বপ্নে হানা দিবে। আর তোমার''জীবনের অভিশাপ্ত মানুষটি।
জানি আমি কেমন আছি তা জানবার কোনো আগ্রহই নেই তোমার মাঝে।কখনো কখনো খুব অবাক হয় কেমন করে এতটা অনুভতি শূন্য হয়ে গেলে তুমি?জানি এখনও তুমি সবার সাথে হাসো,হৃদয় দিয়ে সবাই কে ভালবাসো,এর মাঝে শুধু আমার প্রতি তোমার অনুভতি শূন্যতা কেন?খুব কষ্ট লাগে।মৌটুশী,,তুমি কি জানো,মানুষ কেন একজন অন্য জন কে ভালবাসার কথা বলে,অনুভতি দেখাতে কাছে আসে বা
আসতে দেয়,তার পড় নিজের সুখের প্রয়োজনে সেই ভালবাসার মানুষকে বলে,
আমি জানিনা তোমায় ভালবাসি কি-না!
অথবা,,আমায় একা থাকতে দাও!
অথচ একবারও ভাবেনা,তাকে ভালবাসলো যে মানুষটি সে একা থাকতে চাই কি-না।
ঠিক তুমি যেমনটা আমার সাথে করেছ।নিজেকে অনেক বেশি সহজ সরল মনে করো,মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন ভাব,অথচ ভালবাসি বলে ভালবাসার মানুষকে ময়লার মত ডাস্টবিন এ ফেলে দেয়া,মানবিকতার কোন পর্যায়ে পড়ে সে ব্যাখ্যা কখনো
দাওনি।
জানো কি,
তোমার একটু প্রিয় হওয়ার জন্য,একটু তোমার ভালবাসা পাওয়ার জন্য কত না চেষ্টা করেছি,আর সেগুলো তোমার কাছে সব সময় মূল্যহীন-ই থেকে গেছে।কি জানো তুমি আমার সব কিছুতেই মিথ্যে দোষ দিতে, কিন্তু মিথ্যে অপবাদ মানুষ কে অনেক বেশি কষ্ট দেয়,আমি কষ্ট পেতাম
কিন্ত সেগুলো মেনে নিতাম,ভাবতাম তুমি ভুল বুঝতে পেরে হয়তো তোমার হৃদয়ে জায়গা দিবে।মনে পড়ে,,
একদিন তুমি বলেছিলে আমায় অনেক বেশি ভালবাস, এটাই তোমার বড় দোষ।কষ্ট যতটা না পেয়েছিলাম,তার অনেক বেশি অবাক হয়েছিলাম তোমার মুখে কথাটা শুনে,অনেক বেশি অভিমান হয়েছিল তোমার উপর। কিন্তু রাগ করতে পারিনি,আজও পারিনা।আজও মনে হয়
আমি তোমার ভালবাসা পাবার যোগ্য নয়।আমার মত একটা অনাড়িকে কেনই বা ভালবাসবে তুমি মুক্ত পাখি? মৌটুশী,,তোমার সকল অভিযোগের মাঝে ছিল আমি স্বপ্নচারী মানুষ।হ্যাঁ আমি স্বপ্নচারী মানুষ ছিলাম।যখন আমি প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি,তখন থেকে এই অভ্যাসের শুরু।বয়স যখন বাড়তে থাকলো,তখন এই কল্পনা গুলো তে সিনামা নাটকের প্রেম ভালবাসার প্রভাব বিস্তার শুরু হলো।নিজেকে বেশির ভাগ সময় দেবদাস ধরনের চরিত্র দিয়ে কল্পনার সিনেমা তৈরি করতাম।
আমার স্বপ্নের ভূবনে তুমি যে দিন এলে আমার সব কিছু দিয়ে তোমায় আপন করে নিলাম,কিন্তু তুমি আমার সরলতাকে কাজে লাগিয়ে আমার নিঃস্ব করে,আমার গলায় ছুড়ি ধরে বলে দিলে স্বপ্নচারী মানুষেরা স্বপ্নেই সাথী হয়,বাস্তবে নয়।সময়ের পরিক্রমায় এখন আমি আর স্বপ্ন নিয়ে থাকিনা,অথচ আমি বাস্তবেও নেই..
মৌটুশী,,
তুমি আমায় যতটা খারাব ভেবেছিলে,যতটা নষ্ট বেবেছিলে তত টা হয়তো আমি নষ্ট নই।তুমি শুধু তোমার যুক্তিগুলো আমার সামনে হাজির করতে,অথচ আমার যুক্তি গুলো বিষ্লেশণ করার প্রয়োজন মনে করতেনা।
মৌটুশী ..
তুমি কি রাগ হচ্ছো না কি বিরক্ত হচ্ছো?
না কি আমার লিখা দেখে চোখ সরিয়ে নিবে?
মৌটুশী,,
চিঠিটা শুধু তোমার জন্য লিখা,হয়তো আর কখনো লিখতে পারবোনা।মৌটুশী,,তুমি কি জানো আমি কেন তোমায় আমার জীবনে চেয়েছিলাম,ভেবেছিলে শুধু আমার জন্য
না মৌটুশী,আমার জন্য নয়,তোমার জন্যও নিজেকে তোমার সঙ্গে জড়াতে চেয়েছিলাম।আমি তখনও তোমার সুখের কথা ভেবেছি,এখনো তোমার সুখের কথা ভাবি।তাই তোমার
পথে না দাঁড়িয়ে,তোমায় চিঠি লিখছি,কেউ জানবেনা,শুধু মৌটুশী আর মিজান জানবে।
মৌটুশী,,
জোত্স্না রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে যায়,আমি তখন ঐ দূরের আকাশে তাকিয়ে ভাবতে থাকি তোমায় নিয়ে,কতই না কবিতা গান গল্প লিখেছি ,মনে পড়ে যায় আমাদের সম্পর্ক শুরুর দিন গুলো,ঈদ এর পর সেই ফ্যান্টাসি কিংডমের ঘুড়তে যাবার কথা।তোমায় সেই ঝুটি বাধা অপূরুপ সুন্দর চুলগুলোয় একখানা লেহেঙ্গা পরে আমার স্বপ্নের পরীর বেশে
যেইদিন তোমায় দেখেছিলাম,আর তোমায় দেখেই মনের মাঝে অনুভব করলাম সারাটা জীবন যদি তোমার হাতে হাত রেখে সাথে সাথী করে চলতে পারতাম,তোমায় মনের কথা জানালাম,তুমিও তো হাসি মুখে গ্রহন করলে।এর পর
দিন গুলো ছিল আমাদের স্বপ্নের মত,কিন্ত কিছু দিন পারহতেই তুমি জানালে আমায় ভালবাসনা,তত দিনে আমার যা কিছু ছিল তোমায় দিয়ে দিয়েছি।থাক আর সে কথা বলতে চাই না,আজ পাচটি বছর হয় কাঁদছি,চোখের জল ও শেষ এখন শুধুই রক্তক্ষরন বাঁকী,আশা করি এতেও তুমি নিস্প্রভ থাকবে ঠিক আগের মত করেই।আমার প্রিয় ভালবাসার
মৌটুশী,,
তুমি যখন যা বলেছ মেনে নিয়েছি,কখনো কোনো জোর করিনি,আজ একটা অনুরোধ করবো রাখবে?কাউকে ভালবাসার আগে অথবা কাউকে ভালবাসতে দেওয়ার আগে আর একটু ভেবে নিও?আমার মত আর কাউকে কাছে আসতে দিয়ে পড়ে নিজে ঠকে যেওনা।আর ভালবাসা যদি সত্যিই শুধু খেলা ভাবতাম তবে মনে রেখো আমি তোমার নিকট বার বার আমার ভালবাসার দাবী নিয়ে দারাতাম না।মানুষ কে ভালবাসতে না জানলেও মানুষের মন টাকে শ্রদ্ধা করতে জেনো।
মৌটুশী
জানা নেই কেন গেলে কি ভুলে আমায় দূরে রাখছো,তবে সব ভুলের ক্ষমা হয় হয়তো এমন ভুল করিনি যার ক্ষমা হয় না।তবুও বলবো আমার এই চিঠি শুধু তোমার জন্য,যদি পারো সব ভুলে সুখে থেকো তুমি যে ভাবে সুখে থাকতে চেয়েছ।তখনো ভালবাসতাম আজও বাসি তাই আপন করে জড়িয়ে রাখবো হৃদয় ঘরে সেখানে হয়তো তোমার বর্তমান উপস্থতি থাকবেনা, তোমার নির্বাক  স্মীতিরা থাকবে।যাদের নিয়ে ছিল আমার তুমাহীন পথচলা,মৌটুশীর স্মৃতি আর  মিজান তত দিন থাকবে যত দিন নিঃশ্বাস থাকবে,কারন মৌটুশী শুধুই মিজানের সেখানে হয়তো আর কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হওয়া জীবিত মৌটুশী আর থাকবে না।কদিন যাবৎ জীবনের তৃতীয়  অধ্যায় শুরু করিবার  জন্য পরিবার হইতে চাপ দেওয়া হচ্ছে...
যে শব্দটা মুখ হইতে বাহির করিবার জন্য এতদিন অপেক্ষা করিয়াছেন  তাহারা, পারেনি। তোমাকে পূনরায় পাবার পর অমনেই পাগলের মত বলিয়া আজ আমি স্তব্দ হইয়া গিয়েছি।আমার মা অসুস্থ মাঝেমাঝে  তাই সবাই  চাপ দিত বিয়েটা করার জন্য তবে সেটা সম্ভব হত না কেন জানো,আমার উদ্দেশ্য ছিল না।আমার একটাই চিন্তা  ছিল যে একটু সাবল্মবী হয়ে তোমার নিকট যাবো।হয়েছেও তাই....
কিন্তু আমার জানাছিল না যে ভালবাসায় অপেক্ষা বলতে কীছু  নেই।
অতএব:আমার ভালবাসার মানুষটির মৃত্যু ঘটাইল সে নিজেই...!
তুমি হয়তো বিসাশ্ব করবে না কথা গুলো লিখার সময় কতটুকু কান্না আমাকে করতে হয়েছে।
তোমার স্থানে অন্য কোনো  নারীকে বসাবো এটা কখনোই ভাবতেই পারিনি।আজ আমাকে এমনই এক জন্তনায় ফেলেছো তুমি,,,!কদিন যাবৎ  পাগলের মত হইয়া গেছি আমি..
সকল বন্ধুরা আমার থেকে সরে গেছে, বাসার থেকে বিয়ের প্রেসার।অনেক চেষ্টা  করলাম তোমাকে বুঝাতে,তোমাকে নিয়ে চিন্তায় থাকি সারাদিন।গত একমাস হবে হয়তো চিন্তার ঔশুধ সিগারেটকেও চিরতরে বিদায় বলে দিয়াছি.....!
তোমাকে বুঝানোর মত আমার আর কীছুই নেই।
দীর্ঘ সাত বছরের  প্রেমের অবসান ঘটাই আজ (০৪-০৯-২০১৬ইং)একটি কবিতার কথায়.........

সুরঞ্জনা ,অইখানে যেয়োনাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা অই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনাঃ
নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে;
ফিরে এসো এই মাঠে , ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূর - আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়োনাকো আর।
কী কথা তাহার সাথে? -তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মত তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।
সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস-
আকাশের ওপারে আকাশ।
(আকাশলীনা – জীবনানন্দ দাশ)